প্রযুক্তিতে কতটা এগিয়েছে বাংলাদেশ?

প্রযুক্তিতে কতটা এগিয়েছে বাংলাদেশ?

খুব দ্রুত গতিতে বর্তমানে পুরোবিশ্ব প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আর তাই এক সময় যেটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হতো তাই কিনা আজ পরিনত হয়েছে বাস্তবে।

এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ছোয়া সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও লেগেছে।  আমাদের কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প, বানিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ আমাদের পেশাগত উন্নয়নের সকল পর্যায়ে। আর এরই ধারাবাহিকতায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তান এসেছে আমাদের দেশের আইটি সেক্টরে। বিশেষ করে আউটসোর্সিং সার্ভিস প্রদানকারী দেশ হিসেবে আমাদের বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত গতিতে।

এখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক ও ছয় কোটি ৭২ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছেন। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ তথা ৬ কোটি ৩১ লাখ গ্রাহকই তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করে থাকেন। সার্বিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে নেয়া উদ্যোগগুলোর ফল ইতিমধ্যে আমরা পেতে শুরু করেছি, যা ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহে আরও বাড়বে। আশা করা হচ্ছে, দেশে ২০২০ সাল শেষে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর ৪৯ শতাংশে উন্নীত হবে। এই হার ২০১৬ সালের শেষে ছিল প্রায় ২২ শতাংশ।

আজকের তরুণরাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে। এজন্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। বাংলা, ইংরেজি, গণিতের মতোই প্রযুক্তি শিক্ষায় ছোটবেলা থেকেই গুরুত্ব দিতে হবে। বেশি-বেশি প্রযুক্তির চর্চা করতে হবে।

বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তির রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন যেমন করা যায় তেমনি পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ হয়। এরকম আরও অনেক কার্যক্রম এখন ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ অনলাইনে সম্পন্ন করা হয়। সেই রকম উল্লেখযোগ্য দুটি বড় মাপের সেবা কার্যক্রম হল, মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন এবং অনলাইন ব্যাংকিং। ধীরে ধীরে এই ইন্টারনেট সেবা প্রত্যেকটি খাতেই অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এ ছোয়া যেহেতু লেগেছে পুরো বিশ্বে তারই অংশ হিসেবে আমাদের এ সোনার বাংলাতেও দেখতে পাচ্ছি তার ঝলক। কিছু দিন আগেও যারা আইটি সেক্টরের নানা বিষয়ে ছিল অজ্ঞ তারাই কিনা আজ বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষন গ্রহন করে ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন মর্কেটপ্লেস সমূহে কাজ করে আয় করছে হাজার হাজার ডলার। আর এভাবেই তারা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যন্য দেশে আমাদের সোনার বাংলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যেমন রোগের চিকিৎসা চলছে তেমনি গ্রামাঞ্চল বা মফস্বলের প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য মন্ত্রীরাও ঢাকায় বসে অনেক সময় প্রকল্প উদ্বোধন করেন, জনসভায়ও তাদের বক্তব্য সরাসরি দেখানো হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অভিযাত্রায় সারা দেশে ৫,০০০ ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার বা ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকার দেশব্যাপী ৯,০০০ গ্রামীণ ডাকঘর এবং প্রায় ৫০০ উপজেলা ডাকঘরকে ই-সেন্টারে পরিণত করেছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক সুসম্পর্কের দরুন এক দেশ যেমন খুব সহজেই অন্যদেশে তাদের পন্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারছে ঠিক তেমনি অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট গন্ডি না থাকায় বর্তমানে যে কেউ যে কোন স্থান থেকে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করতে পারে এবং প্রমান দিতে পারে তাদের কাজের দক্ষতার। আর তাই আজ শুধু একচেটিয়া উন্নত দেশ শহর বা জেলার উন্নয় নয় এ কাজের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন ঘটছে সমগ্র দেশের।

আর এ সুযোগটি তৈরি করে দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সমূহ। যার ফলে একজন ব্যক্তি তার নিজের ক্যারিয়ারের উন্নয়নের পাশাপাশি অবদান রাখতে পারছে দেশের জাতীয় উন্নয়নে এবং অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হবে এমন মনমানসিকতার পরিবর্তন ঘটছে এবং মানুষ আজ আত্মনির্ভরশীল হয়ে তৈরি করে নিতে পারছে নিজেই নিজের ক্যারিয়ার।

এছাড়া আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তায় দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আইসিটি বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য সর্বাত্মক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজও খুব সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব। আরো সহজ ভাষায় বললে প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সহজ থেকেও সহজতর করে দিয়েছে। এই সরকার তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আর এই দীর্ঘ মেয়াদী কাজ ভবিষ্যতে আরো এমন কিছু নিয়ে আসবে যেটা আমাদেরকে সুন্দর আর সাবলীল জীবন গড়তে সাহায্য করবে।

আর তাই উপার্জনের দিক দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা বা শহর গুলো যদিও এখনো বেশিরভাগ সফল ফ্রিল্যান্সার দেখা যাচ্ছে বিভাগীয় প্রধান শহরগুলোতেই। এক তথ্যমতে উপার্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সেরা ৭টি শহর হল ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, জামালপুর,সিলেট ইত্যাদি।

‘কৃষি কল সেন্টারের’ মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ পরামর্শ দেয়ার মতো কাজ শুধু ১৬১২৩ নম্বরে ডায়ালের মাধ্যমে জাতীয় কৃষি বাতায়ন করছে। সঙ্গে কৃষি কথা ডটকমে কৃষি বিজ্ঞানীরা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা মেটাচ্ছেন সঙ্গে সঙ্গে। যেটা কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ।

বিশ্ব প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ তৈরি করছে নতুন নতুন সুবিধা সংবলিত ব্যবহারবান্ধব কৃষি উপকরণ, যা কৃষির উন্নতিতে আমাদের দিচ্ছে ব্যাপক সমৃদ্ধি। প্রযুক্তিসম্পন্ন পানি সেচ, সার, হাইব্রিড চাষ পদ্ধতিতে আজ বাংলাদেশ অনেক বেশি এগিয়ে। মৎস্য চাষে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন এবং সঙ্গে সঙ্গে পাট এবং বস্ত্রশিল্পেও আজ প্রযুক্তি নানাভাবে বাংলাদেশকে অবদান রেখে চলেছে।

বর্তামানে সকল ধরনের পেশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহন করছে এবং তাদের প্রতিভা বিকশিত করার চেষ্টা করছে। আর তাই আজ যেহেতু নারীরা আর চারদেয়ালের মাঝে বন্দি নেই তাই আজ তারা সমাজের সকল ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরন করছে। এরই ফলশ্রুতিতে ফ্রিল্যান্সিং জগতেও কোন অংশে পিছিয়ে নেই নারীরা। প্রযুক্তির সাথে জড়িত নারীরা অফিসিয়াল কাজের চেয়ে অনলাইনে কাজ করার ব্যাপারে তাদের জন্য সুযোগ বেশি খুঁজে থাকেন।

লেখক: তরুণ প্রযুক্তিবিদ ইঞ্জি: সীমান্ত আরিফ, সিইও রেড সফট

COMMENTS