‘১৫ জানুয়ারি’র মধ্যেই শেষ হচ্ছে ২৬০০ ইউনিয়নে হাই স্পিড কানেক্টিভিটির কাজ’

‘১৫ জানুয়ারি’র মধ্যেই শেষ হচ্ছে ২৬০০ ইউনিয়নে হাই স্পিড কানেক্টিভিটির কাজ’

উপজেলার পর এবার ইউনিয়ন পর্যায়েও ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল সংযোগের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এটা সবার জানা। কিন্তু সেই সংযোগের কাজ কতদূর। সে সম্পর্কেই কথা বলেছেন ইনফো সরকার থ্রি’র প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. বিকর্ণ কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে ২৬০০ ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির কাজ।

সম্প্রতি ইনফো সরকার থ্রি নিয়ে সার্বিকভাবে ম্যাঙ্গোটিভির সাথে কথা বলেছেন এই প্রকল্প প্রধান।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার যে পরিকল্পনা করছে সরকার। সে কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতির সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ২৬০০ ইউনিয়নকে কানেক্ট করা। এর পাশাপাশি আরো এক হাজার পুলিশ অফিসকে কানেক্ট করা। এখন সর্বশেষ পর্যন্ত ১৭০০ ইউনিয়নকে একদম কানেক্ট করে ফেলেছি।

বিস্তারিত বলতে গেলে, আমাদের ২৬০০ ইউনিয়নের ভিতরে ৩০০ ইউনিয়নে কমপ্লেক্স ভবন নেই। কোনো কোনো জায়গায় ছোট একটা টিনের ঘর আছে। কোনো জায়গায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে ইউনিয়নের কাজ হয়। কোনো জায়গায় দুটো তিনটে রুম ছোটো রুম আছে। সেখানে ছোটো একটা রুম দেওয়ার জায়গা তাদের নেই।

এর মধ্যেই আমরা ২৩০০ ইউনিয়নে রুম পেয়েছি। এগুলোতে যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শেষ। এখান শুধু যন্ত্রপাতি বসালে হবে না, তার বসাতে হবে , জেলা উপজেলাগুলো কানেক্ট করে তারপরে আমাদের যে নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেম আছে। সেখানে কানেক্ট করতে হবে। সব মিলিয়ে আমরা ইতিমধ্যে ১৭০০ ইউনিয়নকে একদম কানেক্ট করে ফেলেছি। আমরা আশা করছি আগামী দুই একমাসের মধ্যে ৬০০ ইউনিয়ন কানেক্ট হয়ে যাবে। আর বাকি থাকলো ৩০০।

এগুলোতে অনেক চেষ্টা তদবির করে আমরা যেহেতু কোনো জায়গায় রুম পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়কে, আমাদের আইসিটি অ্যাডভাইজার সজীব ওয়াজেদ জয়-এর সুপরামর্শে তার উদ্যোগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাহায্যে জায়গার ব্যবস্থা হচ্ছে। আমরা এবার এই সব ৩০০ ইউনিয়নকে সহ যেভাবে হোক কানেক্ট করবো। সব মিলিয়ে আমাদের টার্গেট হলও আগামী জানুয়ারি ১৫ তারিখ এর মধ্যেই ২৬০০ ইউনিয়নকে কানেক্ট করা।

প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেটে স্পিড কত এমবিপিএস। এমন প্রশ্নের জবাবে বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ গিগাবাইট ক্যাপাসিটি থাকবে। সাথে রাউটার থাকবে। যার মাধ্যমে অন্যান্য সরকারি অফিসগুলো যাতে কানেক্ট করতে পারে। এর ফলে কি হবে, যদি প্রতিটি ইউনিয়নে ১০টি করে সরকারি অফিসেও কানেক্ট করি, তাহলে ২৬শ ইউনিয়নে ২৬ হাজার অফিস হাই স্পিড কানেক্টটিভিটির আওতায় আসবে।

প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য দশ জিবি ব্যান্ডউইথ বরাদ্দ জানিয়ে তিনি বলেন, এর পরের স্টেজে আরেকটি প্রকল্প আসছে। সেটির নাম সম্ভবত ইস্টাবিলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি (ইডিসি)। সেই প্রজেক্ট এর মাধ্যমে এই পপ থেকে (আর কোনো পপ করা হবে না) হটস্পট দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, আইএসপি যারা আছে তাদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে হাইস্পিড কানেক্টটিভিটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

পুলিশ কানেক্টটিভিটিতে একটু পিছিয়ে আছি । আমাদের এক হাজার কানেক্ট করার কথা। ইতিমধ্যে আমরা ৭০০ থানায় যন্ত্রপাতি বসিয়ে দিয়েছি। ৪০০ প্লাস পুলিশ হেডকোয়ার্টরে যে নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেম আছে তার সাথে কানেক্ট করা হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পুলিশের কানেক্টিটিভিও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। মোটা দাগে বলতে পারেন এই হলো আমার প্রজেক্টে আপডেট।

রক্ষণাবেক্ষণ করবে কে? প্রতিটি ইউনিয়নের কী আপনাদের দক্ষ জনবল আছে এর জবাবে প্রকল্প প্রধান বলেন, এবার অকপটে স্বীকার করতে হবে। আমারা সার্ভিসের দিক থেকে পিছিয়ে আছি। আফটার সার্ভিস দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। যা অকপটে স্বীকার করতে হবে। সেই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে, এই যে বিশাল নেটওয়ার্ক মেইনটেন করা বা সার্ভিস দেওয়া আসলেই বাংলাদেশ সরকারের নেই। প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে ইন্টারনেটে কী সুবিধা অসুবিধা হচ্ছে, লাইন কেটে গেলে কী করবে, ঝড়ে কেটে যাবে, কেউ হয়তো ভুলে তার কেটে ফেলবে।

এক্ষেত্রে জনগণ চায়। যেটি হবে বিদ্যুতের মতো, এখন কানেক্টিভিটি কেটে গেছে, সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিবে। এর সলিউশন কীভাবে দিবে। এজন্য আমরা যেটা করছি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)। যেটার কাজ হবে সব দেখাশোনা করা।

তিনি বলেন, ‘সরকার এই নেটওয়ার্ক বসিয়ে দিচ্ছে। এটা মেইনটেইন করা, এটাকে আপগ্রেড করা, কেটে গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ। সব মিলিয়ে এর জন্য পিপিপি একটি মডেল দাড় করিয়েছি। ইতিমধ্যে মন্ত্রীসভার কাছে আমরা পাঠিয়েও দিয়েছি। যা পাশ হয়ে যাবে। সেখানে বলা হয়েছে যে, এই কাজগুলো করার জন্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা চুক্তি করবো। সেখানে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এনটিটিএন। তাদের বিশাল বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও জনবল রয়েছে। তাদের সাপোর্ট নিয়েই সেবাগুলো দেওয়া হবে। তাদের সাথে আমাদের একটা চুক্তি হবে বলেও জনান বিকর্ণ কুমার ঘোষ।

ম্যাংগোটিভি/২৭নভেম্বর/এসআর

COMMENTS